June 18, 2026

যেভাবে আপনার উইন্ডোজ পিসিকে কয়েকগুণ ফাস্ট করবেন

উইন্ডোজ পিসি স্লো মনে হয় তাইনা? এই কাজগুলো করলে ফাস্ট হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
পিসি কেনার সময় ভালো ছিল, কয়েক মাস যেতেই স্লো হতে লেগেছে। চালু হতে ২ মিনিট লাগছে, অ্যাপ খুলতে কয়েক মিনিট যাচ্ছে?? এসব হার্ডওয়্যারের সমস্যা নাও হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উইন্ডোজ নিজেই নিজেকে ভারি বানিয়ে রাখে — ব্যাকগ্রাউন্ডে অযথা প্রসেস চলে, র‍্যাম খায়, ডিস্ক ভরে ফেলে।

একটু গুছিয়ে নিলে পুরনো পিসিও হালকা ও ফাস্ট হয়ে যায়। চলুন দেখি কীভাবে।

-----

১. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করুন

এটা সবচেয়ে জরুরি কাজ। Settings → Apps → Installed apps — এখানে গিয়ে একবার লিস্টটা দেখুন। অনেক অ্যাপ পাবেন যেগুলো কখনো খোলেনও না, কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে বা ডিস্ক জায়গা নিচ্ছে। বাছাই করে সরিয়ে দিন।

২. রেয়ারলি লাগে এমন অ্যাপের পোর্টেবল ভার্সন ব্যবহার করুন

কিছু সফটওয়্যার আছে মাসে একবারও লাগে না, কিন্তু ইনস্টল করলেই সিস্টেমে গেড়ে বসে। এগুলোর জন্য পোর্টেবল ভার্সন ব্যবহার করুন। এসব ইনস্টলেশন লাগে না, ফোল্ডার থেকে সরাসরি চলে। এসব সি-ড্রাইভ ব্যতীত অন্য কোথাও রাখলেও সমস্যা নাই।
PortableApps.com — এখানে হাজারো পোর্টেবল সফটওয়্যার পাবেন।

৩. Startup অ্যাপ বন্ধ করুন

পিসি অন করলে কতগুলো অ্যাপ আপনার অনুমতি ছাড়াই চালু হয়ে যায়। এগুলো বন্ধ করলেই বুট টাইম অনেকটা কমে। কাজটা দুইভাবে করা যায়:

Task Manager থেকে: Ctrl + Shift + Esc → Startup apps ট্যাব → যেগুলো দরকার নেই Disable করুন।
Settings দিয়ে: Settings → Apps → Startup — এখান থেকেও করা যায়।

টিপস: যেসব অ্যাপের Startup impact "High" দেখাচ্ছে, সেগুলো আগে দেখুন।

এছাড়া startup ফোল্ডারে অনর্থক/সন্দেহজনক কিছু আছে কি না, সেটাও দেখবেন। এজন্য ফাইল ম্যানেজারের এড্রেসবারে startup লিখে এন্টার করুন।

৪. ডেস্কটপ ও টাস্কবার পরিষ্কার রাখুন

ডেস্কটপে অনেক শর্টকাট বা ফাইল রাখলে সিস্টেম লোড বাড়ে — বিশেষত স্টার্টআপের সময়। যা লাগে না সরিয়ে ফেলুন। টাস্কবারে পিন করা অ্যাপও কমিয়ে রাখুন।

৫. C ড্রাইভে পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন

C ড্রাইভ ভর্তি হয়ে গেলে উইন্ডোজ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না — কারণ temp ফাইল, ভার্চুয়াল মেমোরি, আপডেট সব কিছুর জন্য জায়গা দরকার। এজন্য কমপক্ষে ১৫-২০ GB ফাঁকা রাখুন। আরও বেশি রাখলে বেশি ভালো।

দ্রুত পরিষ্কার করতে: Windows + R → cleanmgr → Run as Administrator → অদরকারি সব চেকবক্স দিয়ে ক্লিন করুন।

৬. Services ম্যানুয়াল করুন — অনেক র‍্যাম বাঁচবে 

এটা একটু অ্যাডভান্সড কিন্তু খুব কার্যকর। উইন্ডোজ বুট হওয়ার সময় অনেক services অটোমেটিক চালু হয় যেগুলো আপনার আসলে লাগে না। এগুলো ম্যানুয়ালে সেট করলে শুধু তখনই চালু হবে যখন দরকার।

সহজ উপায় — ChrisTitus's WinUtil বা WinAero Tweaker দিয়ে এক ক্লিকেই করা যায়।

এটা চাইলে PowerShell থেকেও করা যাবে। এজন্য ChatGPT বা Google-এ "disable unnecessary windows services powershell" লিখে সার্চ করুন — অনেক রেডিমেড স্ক্রিপ্ট পাবেন।

৭. উইন্ডোজ ডিব্লট করুন

উইন্ডোজে এমন অনেক কিছু বাই-ডিফল্ট চালু থাকে যেগুলো বেশিরভাগ মানুষ কখনো ব্যবহার করেন না। যেমন — স্টার্টমেনুতে Bing সার্চ, Cortana, Widgets, বিভিন্ন প্রি-ইনস্টলড গেম ইত্যাদি।
এগুলো বন্ধ বা রিমুভ করাকে বলে "ডিব্লোটিং"।

এজন্য সবচেয়ে ভালো টুল হলো ChrisTitus's WinUtil । PowerShell অ্যাডমিন হিসেবে খুলে নিচের কমান্ড দিন, এরপর সহজ GUI থেকে যা যা বন্ধ করতে চান করুন।

irm christitus.com/win | iex

⚠️সতর্কতা: ডিব্লোটিং করার সময় বুঝে শুনে করবেন। জরুরি জিনিস রিমুভ করলে ফিক্স করতে সমস্যা হবে। কোনো কিছু না বুঝলে ChatGPT বা Google-এ জিজ্ঞেস করে নিন।

----- -----

এসব করলে কী হবে?

এই সাতটা কাজ ঠিকমত করলে আপনার পিসি অনেক ফাস্ট হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এভাবে র‍্যাম কম খাবে, প্রসেসরের ওপরে চাপ কমবে, ফলে পিসি দ্রুত চালু হবে, অ্যাপও দ্রুত খুলবে। এভাবে নতুন পিসি তো বটেই, পুরনো পিসিকেও অনেকটা চাঙ্গা করা সম্ভব।

কোনো পয়েন্ট বুঝলে সরাসরি ChatGPT বা Perplexity-তে জিজ্ঞেস করুন — বিস্তারিত বলে দেবে।

Share:

0 comments:

Post a Comment